Pantex
20 mg
Price Information
MRPপ্যান্টোপ্রাজল হলো একটি প্রতিস্থাপিত বেনজিমিডাজল ডেরিভেটিভ (Substituted Benzimidazole Derivative), যা রাসায়নিকভাবে ৫-(ডিফ্লুরোমেথক্সি)-২-[[(৩,৪-ডাইমেথক্সি-২-পাইরিডিনাইল) মিথাইল] সালফিনাইল]-১এইচ-বেনজিমিডাজল নামে পরিচিত। এটি মূলত একটি প্রো-ড্রাগ, যা শরীরে প্রবেশের পর পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষের অম্লীয় পরিবেশে সক্রিয় হয়। প্যান্টোপ্রাজল সোডিয়াম লবণ হিসেবে সাধারণত বাজারজাত করা হয়, যা পানিতে দ্রবণীয় এবং এর আণবিক স্থায়িত্ব অন্যান্য পিপিআই-এর তুলনায় কিছুটা বেশি।
প্যান্টোপ্রাজলের এই প্রো-ড্রাগ প্রকৃতি এর কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোষের সাইটোপ্লাজমে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং কেবল তখনই সক্রিয় হয় যখন এটি পাকস্থলীর ক্যানালিকুলাসের মতো অত্যন্ত নিম্ন pH (pH < ২) অঞ্চলে পৌঁছায়। এই নির্দিষ্ট সক্রিয়করণ প্রক্রিয়ার কারণে প্যান্টোপ্রাজল শরীরের অন্যান্য টিস্যুতে কম প্রভাব ফেলে, যা এর উচ্চ সুরক্ষা প্রোফাইলের অন্যতম কারণ।
প্যান্টোপ্রাজল সাদা থেকে অফ-হোয়াইট স্ফটিক পাউডার হিসেবে পাওয়া যায়। এটি গ্যাস্ট্রিক এসিডের উপস্থিতিতে দ্রুত ভেঙে যেতে পারে বলে একে এন্টেরিক কোটেড (Enteric Coated) ট্যাবলেট বা দানা হিসেবে তৈরি করা হয়, যাতে ওষুধটি পাকস্থলী অতিক্রম করে ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে শোষিত হতে পারে। 2 এর ফার্মাকোকিনেটিক্স বিশ্লেষণে দেখা যায় যে এর বায়োঅ্যাভায়ালিবিলিটি প্রায় ৭৭% এবং এটি উচ্চমাত্রায় (৯৮%) প্লাজমা প্রোটিন, বিশেষ করে অ্যালবুমিনের সাথে আবদ্ধ থাকে। 2
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| রাসায়নিক শ্রেণী | প্রতিস্থাপিত বেনজিমিডাজল |
| ড্রাগ ক্লাস | প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) |
| বায়োঅ্যাভায়ালিবিলিটি | ৭৭% |
| প্রোটিন বাইন্ডিং | ৯৮% |
| বিপাক কেন্দ্র | লিভার (CYP2C19, CYP3A4 এনজাইম) |
| নিঃসরণ পথ | মূত্র (৭১%), মল (১৮%) |
প্যান্টোপ্রাজল পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষের লুমিনাল সারফেসে বিদ্যমান $H^+/K^+$-ATPase এনজাইম সিস্টেমের ওপর কাজ করে। এই এনজাইমটি সাধারণ ভাষায় 'প্রোটন পাম্প' নামে পরিচিত, যা পাকস্থলীর লুমেনে হাইড্রোজেন আয়ন ($H^+$) নিঃসরণ করে অ্যাসিড উৎপাদন সম্পন্ন করে।
প্যান্টোপ্রাজল এই প্রোটন পাম্পের সাথে সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond) তৈরি করে এনজাইমটিকে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। 1 যেহেতু এই বন্ধনটি অপরিবর্তনীয়, তাই নতুন করে অ্যাসিড নিঃসরণ শুরু হতে হলে প্যারাইটাল কোষকে পুনরায় নতুন এনজাইম বা প্রোটন পাম্প সংশ্লেষণ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার কারণে প্যান্টোপ্রাজলের প্রভাব রক্তের প্লাজমা হাফ-লাইফ (প্রায় ১-২ ঘণ্টা) এর চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা প্রায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অ্যাসিড নিঃসরণ বন্ধ রাখতে সক্ষম।
প্যান্টোপ্রাজল বিভিন্ন ধরণের এসিড-সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসায় এবং প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এর ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত।
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) এবং বুকজ্বালা
GERD-এর চিকিৎসায় প্যান্টোপ্রাজল অত্যন্ত কার্যকর। যখন পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে ফিরে আসে, তখন এটি খাদ্যনালীর অভ্যন্তরীণ আবরণের ক্ষতি করতে পারে। প্যান্টোপ্রাজল অ্যাসিডের পরিমাণ কমিয়ে বুকজ্বালা (Heartburn) এবং টক ঢেকুর ওঠার মতো উপসর্গগুলো উপশম করে। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় এটি খাদ্যনালীর ক্ষত বা ইরোসিভ এসোফ্যাগাইটিস নিরাময়ে সাহায্য করে এবং পুনরায় এই রোগ ফিরে আসা প্রতিরোধ করে।
পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer)
পাকস্থলী (Gastric) এবং ডুওডেনাল আলসারের চিকিৎসায় প্যান্টোপ্রাজল প্রথম সারির ওষুধ। এটি আলসার হিলিং বা নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে যে সব আলসার NSAID (যেমন এসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন) ব্যবহারের ফলে তৈরি হয়, সেগুলো নিরাময়ে এবং প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়।
জোলিঞ্জার-এলিসন সিন্ড্রোম (Zollinger-Ellison Syndrome)
এটি একটি বিরল প্যাথলজিক্যাল অবস্থা যেখানে পাকস্থলী অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যাসিড উৎপাদন করে। প্যান্টোপ্রাজল এই অবস্থার দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়, যেখানে সাধারণ ডোজের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রার ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) নির্মূল
পাকস্থলীর আলসার এবং ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হলো H. pylori ব্যাকটেরিয়া। প্যান্টোপ্রাজল নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের (যেমন ক্লারিথ্রোমাইসিন এবং অ্যামোক্সিসিলিন) সাথে কম্বিনেশন থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয় যাতে পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশ পরিবর্তন করে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়।
অন্যান্য ব্যবহার
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ।
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্ট্রেস আলসার প্রতিরোধ (Prophylaxis)।
ক্রনিক কাশি এবং গিলতে অসুবিধার মতো উপসর্গ যা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সাথে যুক্ত।
প্যান্টোপ্রাজলের ডোজ রোগীর বয়স, রোগের তীব্রতা এবং ক্লিনিক্যাল রেসপন্সের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। এটি ট্যাবলেট, ওরাল সাসপেনশন এবং ইনজেকশন আকারে পাওয়া যায়। 2
প্রাপ্তবয়স্কদের ডোজ (Oral)
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্যান্টোপ্রাজল সাধারণত প্রতিদিন সকালে একবার খালি পেটে সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
| রোগের অবস্থা | সাধারণ মাত্রা (Daily) | মেয়াদের সময়কাল |
|---|---|---|
| ইরোসিভ এসোফ্যাগাইটিস (নিরাময়) | ৪০ মি.গ্রা. | ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত 2 |
| ইরোসিভ এসোফ্যাগাইটিস (রক্ষণাবেক্ষণ) | ৪০ মি.গ্রা. | দীর্ঘমেয়াদী 2 |
| গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ | ২০ - ৪০ মি.গ্রা. | ৪ - ৮ সপ্তাহ 7 |
| ডুওডেনাল আলসার | ৪০ মি.গ্রা. | ২ - ৪ সপ্তাহ 7 |
| গ্যাস্ট্রিক আলসার | ৪০ মি.গ্রা. | ৪ - ৮ সপ্তাহ 7 |
| জোলিঞ্জার-এলিসন সিন্ড্রোম | ৪০ মি.গ্রা. (দিনে ২ বার) | প্রয়োজন অনুযায়ী 2 |
শিশুদের জন্য ডোজ
প্যান্টোপ্রাজল ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ইরোসিভ এসোফ্যাগাইটিসের স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে। ডোজ সাধারণত শিশুর ওজনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় (সাধারণত ১৫ কেজি থেকে ৪০ কেজির শিশুদের জন্য ২০ মি.গ্রা. এবং ৪০ কেজির বেশি ওজনের শিশুদের জন্য ৪০ মি.গ্রা.)।
ইন্ট্রাভেনাস (IV) ডোজ
যেসব রোগী মুখে ওষুধ সেবন করতে পারেন না, তাদের জন্য ৪০ মি.গ্রা. প্যান্টোপ্রাজল ইনজেকশন হিসেবে ৭ থেকে ১০ দিন দেওয়া যেতে পারে। গুরুতর রক্তক্ষরণ বা জোলিঞ্জার-এলিসন সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে এটি উচ্চ মাত্রায় (৮০ মি.গ্রা. প্রতি ১২ ঘণ্টা অন্তর) ব্যবহৃত হয়।
বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য ডোজ সমন্বয়
- কিডনি বিকলতা: কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই।
- লিভারের সমস্যা: মৃদু থেকে মাঝারি লিভারের সমস্যায় ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে গুরুতর লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ২০-৪০ মি.গ্রা. এর বেশি ব্যবহার করা উচিত নয় এবং লিভার এনজাইম নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
- বয়স্ক ব্যক্তি: সাধারণ ক্ষেত্রে বয়স্কদের জন্য ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হয় না, তবে জোলিঞ্জার-এলিসন সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে বয়স্কদের সর্বোচ্চ ডোজ সাধারণত ৪০ মি.গ্রা. এ সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
প্যান্টোপ্রাজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
গ্যাস্ট্রিক ম্যালিগন্যান্সি আড়াল করা
প্যান্টোপ্রাজল ব্যবহারের ফলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের উপসর্গগুলো সাময়িকভাবে উপশম হতে পারে। এর ফলে প্রকৃত রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হতে পারে। তাই বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে যাদের ওজন কমে যাওয়া বা বারবার বমি হওয়ার মতো লক্ষণ আছে, তাদের পিপিআই শুরু করার আগে এন্ডোস্কোপি করে ম্যালিগন্যান্সি নিশ্চিত করা জরুরি।
হাড়ের ভাঙন বা ফ্র্যাকচার
দীর্ঘদিন (এক বছরের বেশি) উচ্চ মাত্রায় প্যান্টোপ্রাজল সেবন করলে অস্টিওপোরোসিস জনিত হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে হিপ, কব্জি এবং মেরুদণ্ডের হাড়। এটি সম্ভবত ক্যালসিয়াম শোষণে ব্যাঘাত ঘটার কারণে হয়।
ভিটামিন বি-১২ এবং ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি
পাকস্থলীর অ্যাসিড ভিটামিন বি-১২ শোষণের জন্য প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদী অ্যাসিড নিঃসরণ বন্ধ থাকলে শরীরে সায়ানোোকোবালামিন বা বি-১২ এর অভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, তিন মাসের বেশি পিপিআই ব্যবহারে হাইপোম্যাগ্নেসেমিয়া (রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব) হতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি বা হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
সংক্রমণ ঝুঁকি
পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে প্রাকৃতিকভাবে কাজ করে। অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যাওয়ায় Clostridioides difficile নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে মারাত্মক ডায়রিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও কিছু গবেষণায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্যান্টোপ্রাজল সাধারণত একটি অত্যন্ত নিরাপদ ওষুধ হিসেবে বিবেচিত এবং বেশিরভাগ রোগী এটি ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন। তবে কিছু সাধারণ এবং বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
এই লক্ষণগুলো সাধারণত মৃদু হয় এবং চিকিৎসা চালিয়ে গেলে নিজে থেকেই সেরে যায়:
- মাথাব্যথা (Headache): সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। 3
- ডায়রিয়া (Diarrhea): অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা পরিবর্তনের কারণে হতে পারে। 3
- পেটে ব্যথা এবং গ্যাস (Abdominal Pain & Flatulence)। 6
- বমি বমি ভাব বা বমি (Nausea/Vomiting)। 10
- মাথা ঘোরা বা ভার্টিগো (Dizziness/Vertigo)। 8
বিরল কিন্তু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
যদি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয় তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
- মারাত্মক অ্যালার্জি (Anaphylaxis): শ্বাসকষ্ট, মুখ ও গলা ফুলে যাওয়া এবং তীব্র চর্মরোগ। 3
- ত্বকের সমস্যা: স্টিভেন্স-জনসন সিন্ড্রোম (SJS) এবং টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস (TEN)। 3
- কিডনি সমস্যা: একিউট ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস, যা কিডনি বিকল করতে পারে। 10
- রক্তের সমস্যা: শ্বেত রক্তকণিকা বা প্লাটিলেট কমে যাওয়া। 3
- মানসিক পরিবর্তন: বিষণ্ণতা, বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন (খুবই বিরল)। 16
| পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | ধরণ | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| মাথাব্যথা | সাধারণ | মৃদু |
| ডায়রিয়া | সাধারণ | মৃদু থেকে মাঝারি |
| জয়েন্টে ব্যথা | বিরল | মাঝারি |
| লিভার এনজাইম বৃদ্ধি | বিরল | নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন |
| বি-১২ ঘাটতি | দীর্ঘমেয়াদী | দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন |
প্যান্টোপ্রাজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত নির্দেশনা হলো ওষুধটির কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি। যদি আগে কোনো পিপিআই (যেমন ওমেপ্রাজল, ল্যানসোপ্রাজল) সেবনের ফলে তীব্র অ্যালার্জি দেখা দিয়ে থাকে, তবে প্যান্টোপ্রাজল এড়িয়ে চলাই ভালো। এছাড়াও, অ্যাটাজানাভিরের (HIV ওষুধ) মতো নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সাথে এটি সেবন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কারণ এটি ওই ওষুধের কার্যকারিতা শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে।
গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে প্যান্টোপ্রাজলের ব্যবহার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা উচিত।
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা
প্যান্টোপ্রাজল গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য ক্যাটাগরি 'বি' (Category B) ভুক্ত ওষুধ হিসেবে আগে চিহ্নিত ছিল। এর অর্থ হলো পশু গবেষণায় ভ্রূণের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি, কিন্তু মানুষের ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। তবে আধুনিক পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে যে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে প্যান্টোপ্রাজল সেবন করলে জন্মগত ত্রুটির (Major malformations) ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় না। তবুও, চিকিৎসকরা সাধারণত গর্ভাবস্থায় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের জন্য প্রথমে জীবনযাত্রা পরিবর্তন এবং এন্টাসিড ব্যবহারের পরামর্শ দেন; যদি তাতে কাজ না হয় তবেই প্যান্টোপ্রাজল বিবেচনা করা হয়।
স্তন্যদানকালে নিরাপত্তা
প্যান্টোপ্রাজল মায়ের বুকের দুধে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে নির্গত হয় (মায়ের ডোজের প্রায় ০.১৪%)। এটি নবজাতকের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয় বলে মনে করা হয়। তবুও, স্তন্যদানকালে এই ওষুধ সেবন করলে শিশুর মধ্যে ডায়রিয়া বা খাওয়ায় অনীহা দেখা দিচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
প্যান্টোপ্রাজল লিভারের সাইটোক্রোম P450 এনজাইম সিস্টেমের মাধ্যমে বিপাকিত হয়, তবে অন্যান্য পিপিআই-এর তুলনায় এর ওষুধের সাথে বিক্রিয়া করার প্রবণতা কম।
পিএইচ (pH) নির্ভর শোষণ ব্যাহত হওয়া
পাকস্থলীর অ্যাসিড কমে যাওয়ায় কিছু ওষুধের শোষণ কমে যেতে পারে:
কেটোকোনাজল ও ইট্রাকোনাজল: এই অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধগুলোর কার্যকারিতা কমে যায়।
আয়রন সল্ট: আয়রন শোষণের জন্য অ্যাসিড প্রয়োজন, তাই রক্তশূন্যতার চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
অ্যাটাজানাভির: এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই ওষুধের প্লাজমা লেভেল মারাত্মকভাবে কমে যায়।
ডিগক্সিন ও রক্ত পাতলা করার ওষুধ
ডিগক্সিন: প্যান্টোপ্রাজল রক্তে ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে টক্সিসিটি ঘটাতে পারে।
ওয়ারফারিন: ওয়ারফারিন এবং প্যান্টোপ্রাজল একসাথে ব্যবহারে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই INR মনিটর করা জরুরি।
ক্লোপিডোগ্রেল: ওমেপ্রাজল ক্লোপিডোগ্রেলের কার্যকারিতা কমিয়ে দিলেও গবেষণায় দেখা গেছে যে প্যান্টোপ্রাজলের সাথে ক্লোপিডোগ্রেল গ্রহণ করা তুলনামূলক নিরাপদ এবং এটি ক্লোপিডোগ্রেলের অ্যান্টি-প্লাটিলেট প্রভাব খুব একটা কমায় না।
প্যান্টোপ্রাজল অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় (যেমন ৪০০ মি.গ্রা. এর বেশি) গ্রহণ করলেও সাধারণত প্রাণঘাতী কোনো বিষক্রিয়া দেখা যায় না। তবে অতিরিক্ত মাত্রার ফলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
তীব্র তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা ঝিমুনি।
পেশীর কাঁপুনি বা ট্রেমর।
শ্বাসকষ্ট বা হাইপোভেন্টিলেশন।
হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যাওয়া (Tachycardia)।
ব্যবস্থাপনা: প্যান্টোপ্রাজল বিষক্রিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিডোট নেই। যেহেতু এটি উচ্চমাত্রায় প্রোটিন বাউন্ড, তাই ডায়ালাইসিস করে এটি শরীর থেকে বের করা সম্ভব নয়। অতিরিক্ত মাত্রার ক্ষেত্রে পাকস্থলী পরিষ্কার (Gastric lavage) করা এবং সাপোর্টিভ চিকিৎসা প্রদানই প্রধান লক্ষ্য।