Also available as:
60 mg
(Tablet)
Advertisement
ইটোরিকক্সিব হলো একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID)। এটি মূলত Selective COX-2 Inhibitor গ্রুপের ওষুধ। এটি শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক রাসায়নিক তৈরিতে বাধা দেয় যা ব্যথা এবং প্রদাহের জন্য দায়ী। সাধারণ ব্যথানাশকের তুলনায় এটি পাকস্থলীর জন্য বেশি নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।
এটি প্রধানত নিচের সমস্যাগুলোতে ব্যবহৃত হয়:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস: হাড়ের জোড়ের ক্ষয়জনিত ব্যথা।
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: গিঁটে গিঁটে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা ও প্রদাহ।
- অ্যানকাইলোসিং স্পন্ডিলাইটিস: মেরুদণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা।
- গাউট (Gout): তীব্র গেঁটে বাত বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত ব্যথা।
- দাঁতের ব্যথায়: ডেন্টাল সার্জারির পরবর্তী ব্যথা কমাতে।
এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করবেন। সাধারণত মাত্রাগুলো হলো:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস: দিনে ৩০ মি.গ্রা. বা ৬০ মি.গ্রা. একবার।
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: দিনে ৬০ মি.গ্রা. বা ৯০ মি.গ্রা. একবার।
- তীব্র গাউট: দিনে ১২০ মি.গ্রা. একবার (সর্বোচ্চ ৮ দিন পর্যন্ত)।
- দাঁতের ব্যথা: দিনে ৯০ মি.গ্রা. একবার।
- যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে।
- কিডনি বা লিভারের সামান্য সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে ডোজ কমিয়ে নিতে হবে।
- অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি থাকলে ওষুধটি এড়িয়ে চলা উচিত।
- শরীরে পানি আসার (Edema) সম্ভাবনা থাকলে সতর্ক থাকতে হবে।
সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে:
- মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা বা দুর্বলতা।
- পাকস্থলীর অস্বস্তি, বদহজম বা পেট ফাঁপা।
- রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
- পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া।
- মুখে ঘা বা কোষ্ঠকাঠিন্য।
- যাদের হৃদরোগ (Heart disease) বা হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস আছে।
- যাদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।
- পাকস্থলীতে সক্রিয় আলসার বা রক্তক্ষরণ থাকলে।
- যাদের লিভার বা কিডনির সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর।
- ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের জন্য এটি নিষেধ।
- গর্ভাবস্থা: এটি গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা নিষেধ, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে। এটি ভ্রূণের হার্ট এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- স্তন্যদানকাল: ওষুধটি মায়ের বুকের দুধে নিঃসৃত হতে পারে, তাই স্তন্যদানকারী মায়েদের এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
ইটোরিকক্সিব নিচের ওষুধগুলোর কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে:
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন: Warfarin)।
- উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (ACE inhibitors)।
- লিথিয়াম (মানসিক রোগের ওষুধ)।
- মেথোট্রেক্সেট (ক্যান্সার বা আর্থ্রাইটিসের ওষুধ)।
- অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনো ব্যথানাশক।
যদি কেউ ভুলবশত মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে ফেলে, তবে দ্রুত পাকস্থলী পরিষ্কার (Gastric lavage) করতে হতে পারে। লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
- আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে (৩০° সেলসিয়াসের নিচে) সংরক্ষণ করুন।
- শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে রাখুন।