AB Kit
200 mg+200 mcg
Price Information
MRPমিফটন / মিফেপ্রিস্টোন (Mifeton / Mifepristone): মিফেপ্রিস্টোন একটি কৃত্রিম স্টেরয়েড যা প্রোজেস্টেরন হরমোনের কার্যকারিতাকে বাধা দেয় । এটি জরায়ুর অভ্যন্তরে প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টরের সাথে প্রতিযোগিতামূলক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে । বিভিন্ন প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি শরীরের নিজস্ব বা বাইরে থেকে নেওয়া প্রোজেস্টেরনের কার্যকারিতা বন্ধ করে মাসিক নিয়মিতকরণ (MR) সম্পন্ন করে । গর্ভাবস্থায় এই উপাদানটি জরায়ুর পেশিকে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের সংকোচন-প্রেরণকারী কার্যকারিতার প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে ।
মিসোটল / মিসোপ্রোস্টল (Misotol / Misoprostol): মিসোপ্রোস্টল হলো প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ই১ (prostaglandin E1)-এর একটি কৃত্রিম অ্যানালগ । এটি জরায়ুর পেশিকোষের নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে জরায়ুর সংকোচন ঘটায় । এই প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়ামের ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটে এবং পেশির সংকোচন শুরু হয় । প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন রিসেপ্টরের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে মিসোপ্রোস্টল জরায়ুমুখ (Cervix) নরম করে এবং জরায়ুকে সংকুচিত করে, যার ফলে জরায়ুর ভেতরের উপাদান বাইরে নিষ্কাশিত বা বের হয়ে যায় ।
মিফেপ্রিস্টোন এবং মিসোপ্রোস্টল — এই দুটি ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করলে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে নিরাপদে এবং কার্যকরভাবে গর্ভপাত বা মাসিক নিয়মিতকরণ (MR) করা যায়। দুটি ওষুধ একে অপরকে সহযোগিতা করে কাজ সম্পন্ন করে।
মিফেপ্রিস্টোন কীভাবে কাজ করে : গর্ভধারণ টিকিয়ে রাখতে শরীরে "প্রোজেস্টেরন" নামের একটি হরমোন দরকার হয়। মিফেপ্রিস্টোন এই হরমোনের কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে জরায়ুর ভেতরের স্তর ভেঙে পড়ে এবং ভ্রূণ আলাদা হয়ে যায়। পাশাপাশি এটি জরায়ুর পেশিকে পরবর্তী ওষুধের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
মিসোপ্রোস্টল কীভাবে কাজ করে এটি জরায়ুর মুখকে নরম করে এবং জরায়ুতে সংকোচন তৈরি করে, যার ফলে গর্ভজাত উপাদান রক্তপাতের মাধ্যমে বাইরে বের হয়ে আসে। ওষুধটি গালের ভেতরে বা জিভের নিচে রাখার মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু হয়।
শরীর থেকে ওষুধ কীভাবে বের হয় মিফেপ্রিস্টোন মুখে খাওয়ার পর দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং লিভারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া হয়ে মলের সাথে বের হয়। মিসোপ্রোস্টল শরীর দ্রুত শুষে নেয় এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
গর্ভাবস্থার শুরুতে সর্বোচ্চ ৯ সপ্তাহ (৬৩ দিন) পর্যন্ত মাসিক নিয়মিতকরণ (MR) বা গর্ভপাতের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যায়।
১ম দিন — প্রথম ধাপ: একটি মিফেপ্রিস্টোন (২০০ মি.গ্রা.) ট্যাবলেট ক্লিনিক, ডাক্তারের চেম্বার বা হাসপাতালে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একক মৌখিক মাত্রা হিসেবে (মুখে) সেবন করতে হবে। ট্যাবলেট ভাঙবেন না বা চিবিয়ে খাবেন না।
২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর — দ্বিতীয় ধাপ: ৪টি মিসোপ্রোস্টল ট্যাবলেট (মোট ৮০০ মাইক্রোগ্রাম) গালের দুই পাশে দুটি করে রাখুন। ৩০ মিনিট রেখে দিন, তারপর বাকি অংশ পানি দিয়ে গিলে ফেলুন। সাধারণত ২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তপাত শুরু হয়। রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক — এটি গড়ে ৯ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।
১০ থেকে ১৪ দিন পর — ফলো-আপ: অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। জরায়ু পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া এই চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।যদি গর্ভাবস্থা বজায় বা সচল থাকে, তবে ভ্রূণের বিকলাঙ্গতা বা জন্মগত ত্রুটির (Foetal malformation) ঝুঁকি থাকে । এই ধরণের ব্যর্থতা দূর করতে সার্জিক্যাল পদ্ধতি বা এমভিএ (MVA) করার পরামর্শ দেওয়া হয় ।
- অতিরিক্ত রক্তপাত: ওষুধ খাওয়ার পর রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক, যা গড়ে ৯ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত চলতে পারে । তবে রক্তপাত যদি খুব বেশি হয়—যেমন টানা দুই ঘণ্টা ধরে প্রতি ঘণ্টায় দুটি সম্পূর্ণ বড় সাইজের প্যাড ভিজে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের বা হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হবে।
- মারাত্মক ইনফেকশনের লক্ষণ: ওষুধ সেবনের ২৪ ঘণ্টা পরেও যদি পেটে তীব্র ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া বা জ্বর থাকে, তবে অবহেলা না করে ডাক্তার দেখাতে হবে । এটি বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে ।
- ভ্রমণ এড়িয়ে চলা: রক্তপাত চলাকালীন সময়ে একা বাড়ি থেকে দূরে কোথাও ভ্রমণ না করাই ভালো, যাতে কোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া যায়।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত মৃদু বা মাঝারি এবং গর্ভপাত প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত :
| পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | কেন হয় এবং লক্ষণ | কীভাবে সামলাবেন |
|---|---|---|
| তলপেটে তীব্র ব্যথা ও মোচড়ানো | জরায়ু সংকুচিত হয়ে গর্ভস্থ উপাদান বের করার চেষ্টা করলে এই ব্যথা হয় | চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে |
| বমি বমি ভাব ও বমি | ওষুধের স্বাভাবিক প্রভাবের কারণে প্রথম দিনগুলোতে এটি হতে পারে | প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে বমিনাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে |
| ডায়রিয়া ও পেটে গ্যাস | ওষুধ খাওয়ার ফলে অনেকের পাতলা পায়খানা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে | এ সময় বেশি করে তরল খাবার এবং খাবার স্যালাইন খাওয়া উচিত |
| সাময়িক জ্বর ও কাঁপুনি | মিসোপ্রোস্টলের প্রভাবে হঠাৎ সাময়িকভাবে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে পারে | তাপমাত্রা যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বেশি থাকে, তবে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন |
নিচের শারীরিক অবস্থা থাকলে এই ওষুধ কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না:
- জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ (Ectopic Pregnancy): গর্ভ যদি জরায়ুর ভেতরে না হয়ে বাইরে (যেমন ডিম্বনালীতে) হয়, তবে এই ওষুধ কাজ করবে না এবং এটি রোগীর জীবনের জন্য চরম বিপজ্জনক হতে পারে ।
- আইইউডি বা কপার-টি: জরায়ুতে কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ডিভাইস বা কপার-টি পরানো থাকলে তা আগে খুলে ফেলতে হবে, তারপর ওষুধ ব্যবহার করা যাবে ।
- রক্তের রোগ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ: যাদের রক্তক্ষরণজনিত রোগ আছে বা যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন ওয়ারফারিন) খাচ্ছেন, অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকির কারণে তাদের জন্য এটি নিষিদ্ধ ।
- অ্যালার্জি: মিফেপ্রিস্টোন বা মিসোপ্রোস্টলের কোনো উপাদানের প্রতি তীব্র অ্যালার্জি থাকলে ।
- অন্যান্য রোগ: যাদের কিডনি, লিভার বা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির মারাত্মক সমস্যা আছে
গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ একবার শুরু করলে অবশ্যই চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হবে। মাঝপথে ছেড়ে দিলে গর্ভের শিশু মারাত্মক শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে — যেমন হাত-পা ঠিকমতো না বাড়া বা ঠোঁট কাটা। গর্ভপাত ব্যর্থ হলে ডাক্তার ভ্যাকুয়াম অ্যাসপিরেশন (MVA) পদ্ধতিতে তা সম্পন্ন করবেন। ওষুধ সেবনের পর আবার গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে কমপক্ষে ১ মাস অপেক্ষা করুন।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় গবেষণায় দেখা গেছে দুটি ওষুধই মায়ের বুকের দুধে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে আসে, যা শিশুর ক্ষতি করে না। তাই বুকের দুধ বন্ধ রাখার দরকার নেই। তবে সতর্কতা হিসেবে শিশুর মধ্যে বমি, ডায়রিয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমের দিকে নজর রাখুন।
কিছু কিছু ওষুধ এই থেরাপির কার্যকারিতা পরিবর্তন করে দিতে পারে:
- ওষুধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়: ছত্রাকনাশক ওষুধ (যেমন কিটোকোনাজল), কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন) বা জাম্বুরার (গ্রেপফ্রুট) রস মিফেপ্রিস্টোনের রক্তে ঘনত্ব এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে ।
- কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়: খিঁচুনির ওষুধ (যেমন ফেনাইটোইন, কার্বামাজেপিন) বা যক্ষ্মার ওষুধ (যেমন রিফাম্পিসিন) এই ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে গর্ভপাত সফল নাও হতে পারে ।
- স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ: মিফেপ্রিস্টোন অ্যাজমা বা অন্যান্য রোগে ব্যবহৃত স্টেরয়েড ওষুধের (যেমন ডেক্সামেথাসন, প্রেডনিসোলোন) কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
- মিফেপ্রিস্টোন বেশি খেলে: ভুলবশত অতিরিক্ত মিফেপ্রিস্টোন খেয়ে ফেললে সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি হয় না, তবে ক্লান্তি বা দুর্বলতা এবং কর্টিসল হরমোনের সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে ।
- মিসোপ্রোস্টল বেশি খেলে: প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিসোপ্রোস্টল খেয়ে ফেললে জরায়ুর মারাত্মক ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ডায়রিয়া, শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এবং শক হতে পারে । এমন হলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে স্যালাইন এবং অন্যান্য জরুরি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হবে ।